শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে

সম্পর্ক

অর্পিতা ঘোষ পালিতত।।

মাথার ওপর কেউ নেই, বাবাকে ছোটবেলায় হারিয়েছি। লেখাপড়া তাই সেরকম এগোয়নি। জমি জায়গা যা আছে ফসল ফলিয়ে দেখাশোনা করে আজ একজন সম্ভ্রান্ত চাষী। ছোটবয়সেই মা বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল তাই দেখতে দেখতে আমার মেয়েরও বিয়ের বয়স হয়ে গেল । একটা ভালো ছেলে পেয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেললাম। একটা দুঃখ মনে কুরে কুরে খায়…মা নাতনির বিয়ে দেখে যেতে পারল না, দুবছর আগে অকালে চলে গেল।

মেয়ের বিয়ে আর মাসখানেক দেরি। হাতে সময় খুব কম, একা সব করতে হচ্ছে, তার মধ্যে আত্মীয়স্বজন নিমন্ত্রণ আছে।

আগে দূরের নেমন্তন্নগুলো শেষ করি আসি কাছাকাছি গুলো পরে করবো। ভাবলাম প্রথমে পিসির বাড়ি দিয়ে শুরু করি, পিসির বাড়ি কলকাতার কাছে। সেই ছোটবেলায় পিসির বাড়ি গিয়েছি, অনেক বছর যাওয়া হয়নি, এখন যোগাযোগ ও নেই, ফোন নম্বর জানিনা। আগে তাও বছরে একবার করে পিসি গ্রামে ঘুরে যেত, পিসির ছেলের বিয়ের পর থেকে একবারও আসেনি, তাও অনেক বছর হয়ে গেল। গতবছর পিসেমশাই মারা গ্যাছেন, যাওয়া হয়নি। কবছর দেখিনি, পিসির জন্য তাই মনখারাপও করছে।

ভোরের বাস ধরে বেড়িয়ে পড়লাম পিসির বাড়ির উদ্দেশ্যে। স্ত্রী উমাকে বললাম– এতো বছর পর যাচ্ছি পিসি কি আজ ফিরতে দেবে? বলবে এতবছর পর এসেছিস কটা দিন থেকে যা। এখন থাকলে হবে না, এদিকে প্রচুর কাজ বাকি তাই আজ না ফিরলেও কাল চলে আসব।

বাস,ট্রেন, শেষে অটোয় করে পিসির বাড়ি পৌঁছালাম। চারিদিকে অনেক পরিবর্তন হয়ে গ্যাছে, অনেক ফ্ল্যাট উঠেছে। প্রথমে ভাবছিলাম রাস্তা ভুল করেছি তারপর অটোওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করে ভুল ভাঙলো। পিসির বাড়ির গলির মুখে অটো থেকে নামলাম। গলিটা একই আছে শুধু বাড়িগুলো আরও উঁচু হয়েছে। পিসির বাড়ির গেটে কলিংবেলে হাত ছোয়ালাম। কিছুক্ষণ পর একজন এসে গেট খুললো, মনে হয় পিসির ছেলে বাবলুর বউ। আমাকে দেখে বললো– কি ব্যাপার, কাকে চাই

বললাম- আমি তোমাদের গণেশদা গো

– গণেশদা, সে আবার কে। আপনি মনে হয় ভুল জায়গায় এসেছেন। বলে দরজা বন্ধ করতে উদ্যত হলো

বললাম– দাঁড়াও, এটা বাবলুদের বাড়ি না?

– হ্যাঁ, কিন্তু আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না

– আমি ঠিকই চিনেছি, তুমি বোধহয় আমাদের বাবলুর বউ। অনেক বছর না এলে কি হবে নিজের পিসির বাড়ি চিনতে পারবো না? সরো দেখি ঢুকতে দাও। …পিসি, ও পিসি কই তুমি? দ্যাখো কেমন না বলে কয়েই চলে এলাম তোমার কাছে… এই বলে ঘরের দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেখি গ্রীল দিয়ে ঘেরা বারান্দার দরজার সামনে একটা সুটকেস আর দুটো ব্যাগ রাখা।

পিসি ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় এলো, আমাকে দেখে বললো– ও গণেশ তুই, এতদিন পর পিসির কথা মনে পড়লো।

পিসিকে প্রনাম করে জড়িয়ে ধরে বললাম– সবসময় মনে পড়ে তোমার কথা, তুমি ছাড়া আমার মাথার ওপর আর কে আছে? তোমার বাড়ি অনেকটা দূর আর সংসারের নানান কাজ আছে, তাছাড়া চাষবাস নিয়ে ব্যস্ত থাকি তাই আসতে পারি না।

এই সময় দরজা খোলা ছিল দেখে বাবলু রাস্তা থেকে বাড়ি ঢুকে বললো– চলো মা গাড়ি চলে এসেছে। তারপর আমাকে দেখে বললো– গণেশদা না, তা হটাৎ এদিকে? মা বুঝি তোমাকে ফোন করে নালিশ জানিয়েছে তাই এসেছো।

– কিসের নালিশ, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। পিসি তুমি কোথাও যাচ্ছ নাকি?

বাবলু– আর ন্যাকা সাজতে হবেনা, মা তোমাকে ফোন করে বলেনি যে আমি বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ফ্ল্যাটে যাচ্ছি, মা বৃদ্ধাশ্রমে যাচ্ছে?

– কই নাতো, পিসি তো আমাকে কোনোদিন ফোনই করেনি। তুই কি পিসিকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে যাচ্ছিস ? আমি ঠিক সময়ে চলে এসেছি, একটু দেরি হলে পিসির সাথে বোধহয় আর কোনোদিন দেখাই হতো না।

পিসি– গণেশ তুই বাড়ি যা। এই বাড়িতে বিয়ে হয়ে এসেছিলাম। তোর পিসেমশাইও চলে গেল। ভেবেছিলাম যে কটা দিন বাঁচবো এখানেই থাকবো। তাতো আর হলোনা, বাকি জীবনটা বৃদ্ধাশ্রমেই কাটাই।

বাবলু– আর বকবক করতে হবেনা, বৃদ্ধাশ্রমে গল্প করার অনেক সঙ্গী পাবে। গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, চলো।

আমি বললাম– বাবলু তুই আমার সাথে সাথে পিসির ব্যাগগুলো গাড়িতে তুলে দে, তোকে আর সাথে যেতে হবেনা। কেননা গাড়িটা স্টেশনে যাবে, আর স্টেশনে আমিও যাবো।

বাবলু– তুমি স্টেশনে যাবে মানে, ঠিক বুঝলাম না

– এসেছিলাম মেয়ের বিয়ের নেমন্তন্ন করতে। এমনিতেই মনটা খুব খারাপ ছিল মাথার ওপর মা-বাবা নেই বলে, তাদের আশীর্বাদ নিয়ে আমার মেয়েটা নতুন জীবন শুরু করতে পারবে না বলে। ভগবান আমার মনের কথা শুনেছেন, তাইতো ঠিক সময়ে তিনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন।

পিসি তোমাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবেনা , তোমার আর এক ছেলে এখনো আছে, তুমি তার কাছে মায়ের আদরে স্বসম্মানে থাকবে। আমার বাড়ি তো তোমারও বাড়ি। তোমার বৌমা উমা তোমাকে পেয়ে খুব খুশি হবে, ছেলেমেয়ে দুটো ঠাকমাকে পেয়ে খুব আনন্দ পাবে। তোমার নাতনির বিয়ে তুমি নিজে হাতে করে দেবে। চলো পিসি, আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

বাবলু দাঁড়িয়ে দেখলো মায়ের হাত ধরে গণেশদা গাড়িতে উঠলো, আস্তে আস্তে গাড়িটা চোখের আড়ালে চলে গেল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD